বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১৬

বৈচিত্র্যময় বৈঁচি!

আমার মায়ের কাছে শুনেছি, ছোটবেলায় থাকা ঝোঁপেঝাড়ে থোকা থোকা গাছপাকা বৈঁচি দিয়ে মালা গাঁথতো। ফরিদপুরের আঞ্চলিক নাম 'টেপা ফল', কারণ ডুমো ফলটাকে আঙ্গুলের নরম প্রেশারে টিপে তুলতুলে করে ঝালনুন দিয়ে খাওয়া হয়।


Plum গোত্রের এই ফলের বীজ ছোট ছোট, একেকটা ফলে ৬-৭টা করে বীজ থাকে। দারুন টক মিষ্টি এক স্বাদের এই ফল, অন্যরকম, পরিচিত কোন স্বাদের সাথে মিল পাই না। রাস্তাঘাটে চলতি পথে হঠাৎ দেখা মেলে আমলকি, হরিতকি, অড়বড়ইয়ের সাথে এই ফলের দেখা। মূলত বর্ষাকালীন ফল, কারণ অন্য সিজনে কমই দেখি।

পথের পাঁচালি, বা সুনীলের কবিতার কারণেই কিনা জানিনা, এই অতি সাধারণ বুনো ফলটাকে আমার কেমন যেন একটা সাহিত্যের ফল মনে হয়। আগ্রহ ভালোবাসার জন্মও সেখান থেকেই।


বাংলাদেশে এই ফলের চাষ করা হয় না, অযত্নে অবহেলায় ঝোঁপেঝাড়ে, ক্ষেতের পাশে বাড়ে, গুল্পজাতের এই গাছের চারা। মূলত এটি এশিয়ান ফল, বাংলাদেশেই কয়েক নামে ডাকা হয়- বৈঁচি, কাউফল, টেপাফল, বুঁজ, ডুংখইর। নামগুলোই এতো মজার, ফলটা তাহলে কেমন হবে বুঝে নিতে হবে! ;)
সত্যি বলতে কি, বড়ইয়ের চেয়ে বৈঁচি আমার বেশি পছন্দের।


কোন এক বর্ষার বিকালে হাত পা ছড়িয়ে ভূতের গল্প পড়তে পড়তে মেঘমেদুর আলো আঁধারিতে বৈঁচির রহস্যময় সুগন্ধী, আর ঝালনুনের মিশেলে যে অদ্ভুত মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, তা দুর্লভ, এবং বেঁচে থাকাকে আনন্দময় করে তোলে!

ছোট্ট এই জীবনে আমরা যখন দূর দূরান্তে সুখ খুঁজে ফিরি, হতাশা হাতরে মরি, তখন মাত্র এক মুঠো বৈঁচিই হতে পারে বেঁচে থাকা সুখময় অনুভব হওয়ার কারণ।

২টি মন্তব্য: