বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১৬

২০০ ক্যালোরির ডিনার

কতবার যে ক্যালোরি কাউন্টার app নামালাম, আর আনইন্সটল করলাম, হিসাব নাই। কিন্তু এখন যখন বদ্ধ পরিকর, ওজন কমাতেই হবে, তাই আবারো অ্যাপ নামালাম, এবং রীতিমত হিসাব করে খাচ্ছি!
গতকালের ডিনার ছিলো চিকেন সালাদ উইথ ফ্রেশ ভেজ।
খাওয়ার পর গুণে গুণে রেসিপির সব ইনগ্রেডিয়েন্ট হিসাব করে দেখলাম, ভরপেট এক বোল সালাদে মাত্র ২০০ ক্যালোরি!!! হয়তো কিছু প্লাস মাইনাস হবে, কিন্তু আগে তো সকালে পরোটা আর ডিমপোজ, দুধ চা দিয়ে নাশতা করলেই দেখা যেত ৮০০ ক্যালোরির বেশি হয়ে গেছে!! তার চেয়ে তো অনেক ভালো এটা।


যাই হোক, কথা না বাড়িয়ে রেসিপি শেয়ার করি।
রেসিপি কয়েকভাগে ভাগ করেছি। খুব সহজ, সালাদ বানাতে বানাতে অন্যান্য টুকটাক কাজ সারা, বা বই পড়া এসবও করা যায়, সারাক্ষণ চুলার সাথে সেঁটে থাকতে হয় না, এটা একটা বিরাট সুবিধা।

চিকেন সালাদ (২০০ ক্যালোরি)

উপকরণ সব বিস্তারিত রেসিপির সাথেই বলবো, তাই আর আলাদা করে লিখলাম না। সোজা চলে যাই চুলায়-

৪ কাপ পানি ফুটাতে দিন, পানি ফুটে উঠলে তাতে এক টুকরা চিকেন ব্রেস্ট এবং ৪টি হোল বাটন মাশরুম যোগ করুন। বাসায় মুরগির বুকের মাংস আলাদা করে রাখতে পারেন, তবে আমি সুপারস্টোর থেকে কিনেছি। এতে হিসাব রাখতে সুবিধা হয়।

এরপর এতে একে একে যোগ করুন মশলাপাতি। আমি যা যা দিয়েছি- আদা গুড়া, রসুন গুড়া, সয়াসস, ওয়েস্টার সস, বারবিকিউ সব, অল্প লবন (কারণ সয়াসস এ এক্সট্রা লবন থাকে), গোল মরিচ গুড়া। লবন বাদে আর সবই এক চা চামচ করে দিয়েছি।

সব দিয়ে সেদ্ধ বসিয়ে সবজি কাটাকাটির কাজ শুরু করতে হবে। লেটুস পাতা, ধনে পাতা, দুইটা কাঁচা মরিচ, একটা বড় পেঁয়াজ, আধাটা ক্যাপসিক্যাম (মাঝারি সাইজের), ইচ্ছা মতো কুঁচি করে কেটে সার্ভিং বোলে রেখে মেশাতে হবে।

খেয়াল রাখতে হবে চুলার পানি শুকিয়ে মাখা মাখা হয়েছে কিনা। এরপর সাবধানে মাশরুমগুলো তুলে নিয়ে কুঁচি করে সবজির বোলে মেশাতে হবে। মাংস সেদ্ধ হয়ে মশলার ঝোল মাখা মাখা হয়ে যাওয়ার পর আমি ফ্রাইং প্যানে রেখে পুরোটা শুকিয়ে ফেলেছি। এরপর একটু গরম মাংসের টুকরা চপিং বোর্ডে রেখে ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে নিতে হবে।

একটি বেকিং ট্রেতে এক চা চামচ সয়াবিন তেল মাখিয়ে তাতে মুরগির টুকরোগুলো রেখে অল্প সয়াসস (লাইট) ছিটিয়ে ১০মিনিট বেক করতে হবে।

এই ফাঁকে বোলে রাখা সবজিতে এক টেবিল চামচ মেয়োনেজ, দুই টেবিল চামচ টক দই, অল্প ড্রাইড থাইম, গোলমরিচ গুড়া মিশাতে হবে চামচের সাহায্যে খুব ভালো করে।

এক চিমটি লবনও দেয়া যায় চাইলে। অথবা একদম শেষে লবন দিতে হবে। এবার ওভেন থেকে চিকেন বের করে এই বোলে মিশিয়ে নিতে হবে ভালো করে। তারপর এক স্লাইস লেবু চিপে ভালো করে মিশিয়ে উপরে কিছু ফ্রেশ লেটুস পাতা কুঁচি করে ছড়িয়ে দিতে হবে।


২০০ ক্যালোরির সালাদ তৈরী। উপরের পরিমাণ দুইজনের পরিমাপে করা হয়েছে। একজনের জন্য প্রস্তুত করতে চাইলে উপকরণের পরিমান ঠিক অর্ধেক হবে।


দুনিয়ার যাবতীয় পুষ্টিকর খাবার বিস্বাদ আর সব টেস্টি খাবার অস্বাস্থ্যকর, নিজের এই ধারণা ভাঙায় নিজেই অনেক খুশী। খাওয়ার পর অনেকক্ষণ জেগে ছিলাম, কিন্তু অন্য সময়ের মতো হাবিজাবি খাওয়ার ক্রেভিং ওঠেনি, ভরপেটেই ঘুমাতে গেছি।
তেল, বাটা মশলা, ভাত তরকারি ছাড়া পরিপূর্ণ একটা Meal- এই চিকেন সালাদ।

বৈচিত্র্যময় বৈঁচি!

আমার মায়ের কাছে শুনেছি, ছোটবেলায় থাকা ঝোঁপেঝাড়ে থোকা থোকা গাছপাকা বৈঁচি দিয়ে মালা গাঁথতো। ফরিদপুরের আঞ্চলিক নাম 'টেপা ফল', কারণ ডুমো ফলটাকে আঙ্গুলের নরম প্রেশারে টিপে তুলতুলে করে ঝালনুন দিয়ে খাওয়া হয়।


Plum গোত্রের এই ফলের বীজ ছোট ছোট, একেকটা ফলে ৬-৭টা করে বীজ থাকে। দারুন টক মিষ্টি এক স্বাদের এই ফল, অন্যরকম, পরিচিত কোন স্বাদের সাথে মিল পাই না। রাস্তাঘাটে চলতি পথে হঠাৎ দেখা মেলে আমলকি, হরিতকি, অড়বড়ইয়ের সাথে এই ফলের দেখা। মূলত বর্ষাকালীন ফল, কারণ অন্য সিজনে কমই দেখি।

পথের পাঁচালি, বা সুনীলের কবিতার কারণেই কিনা জানিনা, এই অতি সাধারণ বুনো ফলটাকে আমার কেমন যেন একটা সাহিত্যের ফল মনে হয়। আগ্রহ ভালোবাসার জন্মও সেখান থেকেই।


বাংলাদেশে এই ফলের চাষ করা হয় না, অযত্নে অবহেলায় ঝোঁপেঝাড়ে, ক্ষেতের পাশে বাড়ে, গুল্পজাতের এই গাছের চারা। মূলত এটি এশিয়ান ফল, বাংলাদেশেই কয়েক নামে ডাকা হয়- বৈঁচি, কাউফল, টেপাফল, বুঁজ, ডুংখইর। নামগুলোই এতো মজার, ফলটা তাহলে কেমন হবে বুঝে নিতে হবে! ;)
সত্যি বলতে কি, বড়ইয়ের চেয়ে বৈঁচি আমার বেশি পছন্দের।


কোন এক বর্ষার বিকালে হাত পা ছড়িয়ে ভূতের গল্প পড়তে পড়তে মেঘমেদুর আলো আঁধারিতে বৈঁচির রহস্যময় সুগন্ধী, আর ঝালনুনের মিশেলে যে অদ্ভুত মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, তা দুর্লভ, এবং বেঁচে থাকাকে আনন্দময় করে তোলে!

ছোট্ট এই জীবনে আমরা যখন দূর দূরান্তে সুখ খুঁজে ফিরি, হতাশা হাতরে মরি, তখন মাত্র এক মুঠো বৈঁচিই হতে পারে বেঁচে থাকা সুখময় অনুভব হওয়ার কারণ।

সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১৬

রঙের পেয়ালা

চীনদেশের চা, বাঙালীর সকাল-সন্ধ্যার নিত্য অভ্যাসের অংশ- বৃটিশদের থেকে পাওয়া এ অভ্যাস এখন অস্থিমজ্জায় মিশে আছে বাঙ্গালীর নিজস্ব ধাঁচে!
খুব করে দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে তাতে চা পাতা ফেলে, হালকা কড়া লিকারে, স্বাভাবিকের চেয়ে আধা চামচ বেশি একটু চিনি দিয়ে চা না হলে ঠিক জমে না! ম্যাজমেজে ভাবটা কাটে না!

কিন্তু এই স্বাদ যে স্বাস্থ্যের তেরোটা বাজাচ্ছে, তা জেনেও চুপি চুপি দুধ চায়ে চুমুক দিচ্ছিলাম অপরাধবোধ মেশানো সুখের আবেশে!
শেষমেশ কততম বারের মতো হিসাব নেই, আবারো ফিরলাম সবুজ চায়ের বিস্বাদ জগতে।




জেনেশুনে বিষপানের তো কত তরিকাই আছে, দেশী কাজী এন্ড কাজী থেকে শুরু করে বিদেশী টুইনিংস সব সবুজ চায়ের স্বাদই একইরকম শুকনো ঘাসের মতো লাগে। যদিও শুকনো ঘাস কখনো খাইনি, তবে অনুভূতিটা তেমনই। তার উপর 'সুগার ইনটেক জিরো' করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তো কথাই নেই! মধুতে লেবুতে, আদা, দারুচিনি বা গোলমরিচের মিশেলেও সেই বিস্বাদ তিতকুটে বিষভাব যায় না।
কিন্তু ঐ যে, মানুষ অভ্যাসের দাস... শেষপর্যন্ত গিলতে লাগলাম। রেসিপি বদলে বদলে। কোনদিন আদা গোলমরিচ, তো কোনদিন দারুচিনি মধু, কোনদিন চোখ নাক বুঝে শুধুই সবুজ চা!

সুপারস্টোরে ঢুঁ মারতে গিয়ে পেলাম কাজী এন্ড কাজীর চাররকম চায়ের মিশেলের এক প্যাকেজ। ভাবলাম, "সবই যখন হলো, এটা আর বাদ থাকবে কেন?"







তুলসি চা, জেসমিন সবুজ চা, আদা চা, আর বিশুদ্ধ সবুজ চা- এই চারের সংগ্রহের প্যাকেজে ৪০টি টি-ব্যাগ থাকে, ৬০ গ্রামের মেডলি বক্সের দাম ১৬০ টাকা। বেশ হাতের নাগালে দামটা।

এবার আসি স্বাদের বেলায়- গ্রীন টি- অবশ্যই বাজে টেস্টই হবে। তুলসি চা আমার মাকে চিনি দিয়ে গুলে দিয়েছিলাম, তার সুগারের সমস্যা নেই। জানালো, বেশ ভালো! কিন্তু আমার কাছে চিনিহীন চা তো সেই বিষেরই সমান। আদা চা টা গ্রীনটি দিয়ে মিলিয়ে খেয়েছি, ভালো লেগেছে- অস্বীকার করবো না।

তাই যারা আমার মতোই চাইছেন সারাদিন ফুরফুরে আমেজ ধরে রাখার মতো, তাড়িয়ে ফুঁ দিয়ে আয়েশে এক পেয়ালা দুধ চায়ের ভালোবাসার আহ্বান ছেড়ে স্বাস্থ্যরক্ষার খাতিরে শুকনা মুখে প্যাকাটি ভঙ্গীতে শুট শুট করে কয়েক চুমুকে এক কাপ চা শেষ করতে, তাদের জন্য এটা একটা গুড স্টার্টিং হতে পারে, একেবারে সব ছেড়েছুড়ে শুধুমাত্র সাধারণ গ্রীন টি বেছে নেয়ার চেয়ে।

চায়ের গুণগান যা প্যাকেজের গায়ে লেখা আছে তার ছবি দিয়ে দিলাম।




সত্যি বলতে কি, গত এক সপ্তাহে কিছুটা হলেও ঝরঝরে ফীল করছি, জানিনা এটা আসলেই ডিটক্সের জোরে, না মনের জোরে। তবে মেঘমেদুর দিনে দুধ চা যদি খেতে ইচ্ছাই করে, ছোট্ট এই জীবনে এক কাপ চায়ের মায়া ত্যাগ করে সন্ন্যাসী না হয়ে টুক করে খেয়েই ফেলেন। এরপর এক দফা দৌড়ঝাঁপ, ব্যায়াম ট্যায়াম করে নিলেই হবে, নাকি? :)

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১৬

কুচ্ছিত হাঁসের ছানা

'বিউটি ব্লগিং'- কথাটার সাথে পরিচিত নেই, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! বিশ্বজুড়ে লিঙ্গভেদমুক্ত ভাবেই ছড়িয়ে পড়েছে বিউটি ব্লগিং এর ট্রেন্ড। একেকজন গুণীকে দেখি আর অবাক হয়ে থাকি। প্রফেশনাল মেকাপ আর্টিস্টদের সাথে পাল্লা দিয়ে অনেক এমেচার এমন সব খেলা দেখিয়েছেন এই রঙ মিশেলের জগতে, অবাক হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

নিজেরাই প্রতিনয়ত  এক্সপেরিমেন্ট করে বের করছেন সহজে সাজের দারুন ট্রেন্ড, আবার একইসাথে নানারকম বিউটি হ্যাকস আবিষ্কার করে অনেক জটিল সমস্যার সহজ সমাধান বের করে ফেলছেন!
তাদের জানাই স্যালুট!
Ugly Duckling বা কুচ্ছিত হাঁসের ছানা'র গল্প বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, হ্যান্স এন্ডারসনের রূপকথার জগৎ ছোটবেলা থেকেই আমাকে ভীষণ টানে। মজার বিষয় হচ্ছে, আমার লেখা প্রথম গল্পের নামও কিন্তু 'Ugly Duckling'।

নিছক এক্সপেরিমেন্টালি, মজা করে এই ব্লগের জন্ম দেয়া। সব সুন্দরীদের ভীড়ে, মুখভর্তি ব্রণ আর দাগ নিয়ে, স্মোক না করেও কুঁচকুচে কালো ঠোট, আর বেঢপ এক ভুঁড়ি নিয়ে খায়েশ হলো জগতের সৌন্দর্য আহরণের, (অবশ্যই ম্যাটেরিয়ালিস্টিক সৌন্দর্য), এবং তা হালকা পলকা ভাবে শেয়ার করার।

সাথে আমার লেখা কিছু গল্পও আসতে পারে এই ভার্চুয়াল নোটবুকে, আবার নাও আসতে পারে!

কারো মনে কষ্ট দিতে, বা কাওকে মক করতে এর সূচণা না, আগে থেকেই ডিসক্লেইমার দিয়ে রাখলাম।

আশা করি, কালেভদ্রে দিনলিপি, সাজলিপি, ঢংলিপি সবই এখানে লিপিবদ্ধ করতে পারবো।