সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১৬

রঙের পেয়ালা

চীনদেশের চা, বাঙালীর সকাল-সন্ধ্যার নিত্য অভ্যাসের অংশ- বৃটিশদের থেকে পাওয়া এ অভ্যাস এখন অস্থিমজ্জায় মিশে আছে বাঙ্গালীর নিজস্ব ধাঁচে!
খুব করে দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে তাতে চা পাতা ফেলে, হালকা কড়া লিকারে, স্বাভাবিকের চেয়ে আধা চামচ বেশি একটু চিনি দিয়ে চা না হলে ঠিক জমে না! ম্যাজমেজে ভাবটা কাটে না!

কিন্তু এই স্বাদ যে স্বাস্থ্যের তেরোটা বাজাচ্ছে, তা জেনেও চুপি চুপি দুধ চায়ে চুমুক দিচ্ছিলাম অপরাধবোধ মেশানো সুখের আবেশে!
শেষমেশ কততম বারের মতো হিসাব নেই, আবারো ফিরলাম সবুজ চায়ের বিস্বাদ জগতে।




জেনেশুনে বিষপানের তো কত তরিকাই আছে, দেশী কাজী এন্ড কাজী থেকে শুরু করে বিদেশী টুইনিংস সব সবুজ চায়ের স্বাদই একইরকম শুকনো ঘাসের মতো লাগে। যদিও শুকনো ঘাস কখনো খাইনি, তবে অনুভূতিটা তেমনই। তার উপর 'সুগার ইনটেক জিরো' করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তো কথাই নেই! মধুতে লেবুতে, আদা, দারুচিনি বা গোলমরিচের মিশেলেও সেই বিস্বাদ তিতকুটে বিষভাব যায় না।
কিন্তু ঐ যে, মানুষ অভ্যাসের দাস... শেষপর্যন্ত গিলতে লাগলাম। রেসিপি বদলে বদলে। কোনদিন আদা গোলমরিচ, তো কোনদিন দারুচিনি মধু, কোনদিন চোখ নাক বুঝে শুধুই সবুজ চা!

সুপারস্টোরে ঢুঁ মারতে গিয়ে পেলাম কাজী এন্ড কাজীর চাররকম চায়ের মিশেলের এক প্যাকেজ। ভাবলাম, "সবই যখন হলো, এটা আর বাদ থাকবে কেন?"







তুলসি চা, জেসমিন সবুজ চা, আদা চা, আর বিশুদ্ধ সবুজ চা- এই চারের সংগ্রহের প্যাকেজে ৪০টি টি-ব্যাগ থাকে, ৬০ গ্রামের মেডলি বক্সের দাম ১৬০ টাকা। বেশ হাতের নাগালে দামটা।

এবার আসি স্বাদের বেলায়- গ্রীন টি- অবশ্যই বাজে টেস্টই হবে। তুলসি চা আমার মাকে চিনি দিয়ে গুলে দিয়েছিলাম, তার সুগারের সমস্যা নেই। জানালো, বেশ ভালো! কিন্তু আমার কাছে চিনিহীন চা তো সেই বিষেরই সমান। আদা চা টা গ্রীনটি দিয়ে মিলিয়ে খেয়েছি, ভালো লেগেছে- অস্বীকার করবো না।

তাই যারা আমার মতোই চাইছেন সারাদিন ফুরফুরে আমেজ ধরে রাখার মতো, তাড়িয়ে ফুঁ দিয়ে আয়েশে এক পেয়ালা দুধ চায়ের ভালোবাসার আহ্বান ছেড়ে স্বাস্থ্যরক্ষার খাতিরে শুকনা মুখে প্যাকাটি ভঙ্গীতে শুট শুট করে কয়েক চুমুকে এক কাপ চা শেষ করতে, তাদের জন্য এটা একটা গুড স্টার্টিং হতে পারে, একেবারে সব ছেড়েছুড়ে শুধুমাত্র সাধারণ গ্রীন টি বেছে নেয়ার চেয়ে।

চায়ের গুণগান যা প্যাকেজের গায়ে লেখা আছে তার ছবি দিয়ে দিলাম।




সত্যি বলতে কি, গত এক সপ্তাহে কিছুটা হলেও ঝরঝরে ফীল করছি, জানিনা এটা আসলেই ডিটক্সের জোরে, না মনের জোরে। তবে মেঘমেদুর দিনে দুধ চা যদি খেতে ইচ্ছাই করে, ছোট্ট এই জীবনে এক কাপ চায়ের মায়া ত্যাগ করে সন্ন্যাসী না হয়ে টুক করে খেয়েই ফেলেন। এরপর এক দফা দৌড়ঝাঁপ, ব্যায়াম ট্যায়াম করে নিলেই হবে, নাকি? :)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন